Insights Wonders শিক্ষামূলক পোর্টালে আপনাকে স্বাগত!

Insights and Wonders

Invest in knowledge | Get endless profits

সাম্প্রতিক আপডেট:
লোড হচ্ছে...
হেডারের বিজ্ঞাপন (Layout থেকে কোড বসান)
[বিজ্ঞাপন: আর্টিকেলের মাঝামাঝি]
[বিজ্ঞাপন: আর্টিকেলের নিচে]
[বিজ্ঞাপন: হোমপেজ পোস্টের মাঝখানে]

নিয়োগ পরীক্ষায় আসা গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সমূহ

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত নিয়োগ পরীক্ষায় অনুচ্ছেদ দেওয়া হয়। নিচে বিভিন্ন মাসে বা সময়ে অনুষ্ঠেয় নিয়োগ পরীক্ষার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ দেওয়া হলো। এসব অনুচ্ছেদ একাধিকবার পরীক্ষায় এসেছে। এই অনুচ্ছেদগুলো গুণগত মান বজায় রেখে যথাসম্ভব ছোট করা হয়েছে এবং এগুলোর ভাষা সহজ ও সাবলির করা হয়েছে।


সার্বভৌমত্ব অনুচ্ছেদ

সার্বভৌমত্ব বলতে কোন রাষ্ট্রের নিজের অভ্যন্তরীণ চূড়ান্ত ক্ষমতাকে বোঝায়। সার্বভৌমত্ব কোনো পরিচালনা পরিষদের বাইরের কোনো উৎস বা সংগঠনের হস্তক্ষেপ ছাড়া কাজ করার পূর্ণ অধিকার ও ক্ষমতা। রাজনৈতিক তত্ত্ব অনুযায়ী, সার্বভৌমত্ব কোনো একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার উপর সর্বোচ্চ ক্ষমতা নির্দেশকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা। এটি রাষ্ট্রগঠনের সার্বভৌমত্বকেন্দ্রীক মতবাদের একটি মূলনীতি। সার্বভৌমত্বের বর্তমান ধারণায় ভূখণ্ড, জনসংখ্যা, কর্তৃপক্ষ এবং স্বীকৃতি- এই চারটি দিক রয়েছে। বিশিষ্ট আইনজ্ঞ জন অস্টিন-এর মতে, 'যদি কোনো নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টি অপর কোনো উর্ধ্বতনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ না করে সেই সমাজের বেশিরভাগ লোকের স্বভাবজাত আনুগত্য লাভ করে, তখন সেই নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সেই সমাজের সার্বভৌম কর্তৃপক্ষের অধিকারী এবং উক্ত সমাজ একটি রাজনৈতিক ও স্বাধীন সমাজ'। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হবস বলেন, 'সার্বভৌম ক্ষমতা হলো ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমষ্টির সেই ক্ষমতা, যা যুদ্ধের অবস্থা থেকে শান্তি ও শৃঙ্খলার অবস্থায় পৌঁছার জন্য মানুষ পারস্পরিক চুক্তি করে পদাধিকারীর হাতে তুলে দিয়েছে'। সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত, স্থায়ী, অবিভাজ্য, অহস্তান্তরযোগ্য এবং সর্বজনীন ক্ষমতা। এ ক্ষমতার বলে রাষ্ট্র তার অধীন সকলকে আদেশ ও নির্দেশ দান করে এবং সকলের নিকট থেকে আনুগত্য লাভ করে। অন্যভাবে বলা যায়, সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ক্ষমতা যার ফলে অন্য রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ মুক্ত থাকে।

বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ অনুচ্ছেদ

বাংলাদেশ রেলওয়েকে নির্ভরযোগ্য ও গণমুখী গণপরিবহন করার লক্ষ্যে রেলপথ বিভাগকে গত ৪ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে একটি স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ে উন্নীত করা হয়েছে। রেল যোগাযোগ ও পরিবহন পরিষেবার মানোন্নয়নকে ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প ২০২১ শীর্ষক জাতীয় দলিলে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে ২,৯৫৫.৫৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনের নেটওয়ার্ক দেশের ৪৪টি জেলাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে সংযুক্ত করেছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর রেলওয়ের অর্জিত সাফল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ৩৩০.১৫ কিমি, নতুন রেললাইন নির্মাণ ২৪৮.৫০ কিমি. মিটারগেজ রেললাইন ডুয়েলগেজে রূপান্তর ১,১৩৫.২৩ কিমি. রেলরাইন পুনর্বাসন/পুননির্মাণ, ৯১টি স্টেশন বিল্ডিং নতুন নির্মাণ, ২৯৫টি রেলসেতু নির্মাণ, ২৭০টি যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ, ৫১৬টি মালবাহী ওয়াগন এবং ৩০টি ব্রেক ভ্যান সংগ্রহ, ৯০টি স্টেশন সিগন্যালিং ব্যবস্থা উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণ, ১২৭টি নতুন ট্রেন চালুকরণ, ৩৮টি চলমান ট্রেন সার্ভিস বর্ধিতকরণ। জনসাধারণের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পের আওতায় রোলিং স্টক সংকট নিরসনকল্পে ১০০টি এমজি ও ৪০টি বিজি লোকোমোটিভ, ৫৫০টি এমজি এবং ৫০টি বিজি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এগুলো বাংলাদেশ রেলওয়েতে যোগ হওয়ার পর এবং রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা ২০১৬-২০৪৫ বাস্তবায়িত হওয়ার পর রেলওয়ে একটি আধুনিক গণপরিবহণ মাধ্যমে পরিণত হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের সুফল-কুফল অনুচ্ছেদ

ভৌগোলিক দূরত্ব দূর করার অন্যতম উপায় হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম প্রচলিত রয়েছে যেমন: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম, ভাইবার, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার নিজস্ব পরিচয় বহন করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থান করা যে কারো গথে খুব সহজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের যোগাযোগ স্থাপন করে দিতে সক্ষম। পৃথিবীর সব থেকে জনপ্রিয় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক। আজকাল এ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে ব্যবসা বাণিজ্য। খুলে গেছে ই-কমার্সের দুয়ার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে নানা জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য চার বিভিন্ন সংগঠন। মোটকথা, জীবনের এমন কোনো দিক নেই যেখানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব নেই। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বেশ কিছু কুফলও রয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ইভটিজিং হমকি, প্রতারণা, ব্ল‍্যাকমেইলিং এর মত নানাবিধ সাইবার ক্রাইম এর মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এসব মাধ্যমে আমরা বাস্তবতা বিবর্জিত হয়ে অন্যের সাথে ভার্চুয়ালি পরিচিত হচ্ছি, যেখানে সম্পর্কগুলো বাস্তবতা থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। এছাড়া তরুণ সমাজ ফেসবুকে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। অল্প বয়সী ফেসবুক ব্যবহাকারীরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়ে। ছাত্র/ছাত্রীরা অতিরিক্ত ফেসবুক আসক্তির কারণে বইপড়া থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। গুজব ছড়ানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সবচেয়ে খারাপ দিক। দুষ্কৃতিকারীরা খুব সহজেই গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে স্বার্থ হাসিল করছে। পরিশেষে বলা যায়, প্রতিটি বিষয়েরই ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক-ই থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক ব্যবহার সুনিশ্চিত করলে একদিন আমাদের দেশ এক সুন্দর আগামীর পথে এগিয়ে যাবে।

নদীদূষণ ও প্রতিকার অনুচ্ছেদ

বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এ দেশের ওপর দিয়ে বয়ে চলেছে ছোট-বড় অসংখ্য নদ-নদী। কিন্তু অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ, নদী শাসন, ভয়াবহ দূষণ এবং চারপাশের লোভী মানুষের কবলে পড়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে নদীগুলো। নদীর পাড় জুড়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত রাসায়নিক তরল উপাদানসহ মানবসৃষ্ট নানা ক্ষতিকারক বর্জ্য পদার্থের অবাধ নিক্ষেপে নদীগুলি প্রতিনিয়ত দূষিত হচ্ছে। দূষণের পাশাপাশি ভূমিলোভীদের অবৈধ অপচেষ্টায় নদীগুলি ভরাট করা হচ্ছে। এর সাথে প্রাকৃতিক কারণে যুগ যুগ ধরে পলির স্ফীত আবরণ ড্রেজিং না করায় দেশের বেশির ভাগ নদ-নদীগুলো এখন মৃতপ্রায়। দেশের অমূল্য সম্পদ নদ-নদী। কাজেই নদী দূষণ ও অবৈধ দখলদারিত্বের হাত থেকে নদীকে বাঁচাতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি আপামর জনসাধারণকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। নদীর নাব্যতা রক্ষা করতে নিয়মিত পলি অপসারণ ও খননকাজ অব্যাহত রেখে নদীর গভীরতাকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে যথেচ্ছা নদী শাসনের প্রবণতাও রোধ করতে হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে ভাষা আন্দোলনের ভূমিকা অনুচ্ছেদ

ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকারবোধের জাগরণের মাধ্যমে সকল প্রকার শোষণ থেকে মুক্তির অনুপ্রেরণা দান করে। যার ফলে ৫২-এর রোপিত বীজ ৭১-এ এসে মুক্তির মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়। বাঙালি জাতি ভাষা আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়ে ৫২, ৫৪, ৬২, ৬৬, ৬৯ এবং ৭০-এর বিজয়কে চূড়ান্ত রূপ দান করে ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে। ৫২-এর অনুপ্রেরণা এবং বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাঙালিকে আপোষহীন করে গড়ে তোলে। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই, রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাঙালি ছাত্র সমাজ ফুঁসে উঠে। সেই দুর্বার ছাত্রদের দুঃসাহসিক আন্দোলন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে হাত ছানি দিয়ে ডেকেছিল। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতিসত্তার চেতনা ক্রমে ক্রমে উন্মোষ ঘটে এবং এ চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটায়। যার ফলে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পাই। বিশ্ব দরবারে পৎপৎ করে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

সামাজিক নবায়নের গুরুত্ব অনুচ্ছেদ

প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য একটি দেশের মোট ভূমির ২৫ শতাংশ বনভূমি আবশ্যক। বনাঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আবহাওয়া ও জলবায়ুসহ প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূণ ভূমিকা পালন করে। বৃক্ষ একাধারে প্রাণীকূলের খাদ্য এবং শক্তির উৎস। বৃক্ষ মানুষকে অক্সিজেন দান করে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে। ছায়া প্রদানের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বকে শীতল রাখে। মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন, আসবাবপত্র, জ্বালানি কাঠ, নৌকা ইত্যাদি নির্মাণের জন্য বৃক্ষ হতে কাঠ সংগ্রহ করে। শিল্পদ্রব্যের কাঁচামাল যেমন- রেয়ন, পেন্সিল, কাগজ, দেশলাইয়ের কাঠি ইত্যাদি বৃক্ষ থেকে আসে। মোটকথা বৃক্ষের নানামুখী অবদানকে বাদ দিয়ে মানবসভ্যতার ক্রমবিবর্তন বা উত্তরণের কথা কল্পনাই করা যায় না। কাজেই মানবজীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তার কথা কোনোক্রমেই অস্বীকার করার উপায় নাই।

পরিবেশ দূষণ ও এর প্রতিকার অনুচ্ছেদ

আমাদের চারপাশে যা কিছু রয়েছে তাই আমাদের পরিবেশ। মানুষ তার বিদ্যা, বুদ্ধি দিয়ে এবং নিরলস পরিশ্রমে তার চারপাশের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে সাজিয়েছে। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আর স্বার্থান্বেষী কিছু মানুষের লোভে প্রাকৃতিক পরিবেশ আজ নানান ভাবে দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ আজ সারা পৃথিবীর একটি বিরাট সমস্যা। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের অন্যতম ও প্রধান হলো বায়ু যা ছাড়া প্রাণীজগত এক মুহূর্তও বাঁচতে পারে না। বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ হল নিউক্লিয় আবর্জনা, কয়লা পুড়িয়ে কার্বন-ডাই অক্সাইড বাতাসে ছড়িয়ে দেওয়া, কলকারখানার দূষিত গ্যাস, যানবাহনের জ্বালানি পোড়া গন্ধ বাতাসে মিশে বাতাস দূষিত হচ্ছে। কলকারখানা থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ মিশ্রিত জল নদীর জলে মিশে নদীর জলকে দূষিত করছে। নানা প্রকারের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধকল্পে আমাদের কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিবেশ দূষণ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে একমাত্র উদ্ভিদ। উদ্ভিদ বাতাস থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে আর বাতাসে অক্সিজেন ছেড়ে দেয়। যে অক্সিজেন প্রাণীজগতের বাঁচার জন্য অপরিহার্য। তাই বেশি করে গাছ লাগাতে হবে এবং সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া কলকারখানা থেকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের ব্যবস্থা গ্রহণ, কলকারখানার বা নর্দমার তরল যাতে নদীর জলে না মেশে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈব সারের প্রয়োগ বেশি করে এবং কীটনাশকের পরিমাণ কমিয়ে দূষণ রোেধ সম্ভব। সর্বোপরি যানবাহনে পেট্রল বা ডিজেল পোড়ানোর পরিবর্তে ব্যাটারি চালিত গাড়ির ব্যবহার করতে পারলে দূষণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশের পাট উৎপাদন এবং পাট পণ্য ব্যবহার অনুচ্ছেদ

একসময় বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরি ফসল ছিলো পাট। বিশ্বের মোট উৎপাদনের ৮০% পাট উৎপাদিত হতো বাংলাদেশে। পাট হতে চট, বস্তা, কার্পেট, দড়ি, কম্বল, পর্দার কাপড়, চিকন সুতা, জিওজুট ইত্যাদি তৈরি হয়। পাট শিল্পের অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে নানা দুর্বলতার কারণে বর্তমানে দেশে পাটের চাষ অনেক কমে এসেছে। দক্ষ জনবল বৃদ্ধিসহ পাটজাত পণ্য বৃদ্ধি করার মাধ্যমে পাটের সোনালী যুগ আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব। সর্বোপরি সরকারকে পাটের উন্নয়নে নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লাইব্রেরি অনুচ্ছেদ

গ্রন্থাগার বা প্রকৃত অর্থে 'পাঠাগার' হলো বই, পুস্তিকা ও অন্যান্য তথ্য সামগ্রির একটি সংগ্রহশালা। যেখানে পাঠকের প্রবেশাধিকার থাকে এবং পাঠক সেখানে পাঠ, গবেষণা কিংবা তথ্যানুসন্ধান করতে পারেন। বাংলা 'গ্রন্থাগার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে গ্রন্থ+আগার এবং 'পাঠাগার' শব্দটির সন্ধি বিচ্ছেদ করলে পাঠ+ আগার পাওয়া যায়। অর্থাৎ গ্রন্থসজ্জিত পাঠ করার আগার বা স্থান হলো গ্রন্থাগার। গ্রন্থাগারের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বায়িত্বশীল ব্যক্তি হলেন গ্রন্থাগারিক। গ্রন্থাগারের ইতিহাসের শুরু ২৬০০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে। প্রাগৈতিহাসিক থেকে ঐতিহাসিক যুগের সন্ধিক্ষনে তক্ষশীলা ও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ে অতীব সমৃদ্ধ গ্রন্থাগারের অস্তিত্ব মিলেছে। গ্রন্থাগারের মূল লক্ষ্য থাকে তথ্যসংশ্লিষ্ট উপাদান সংগ্রহ, সংরক্ষণ, সংগঠন, সমন্বয় এবং পাঠকের জন্য তা উন্মুক্ত করা। বিভিন্ন ধরণের গ্রন্থাগার রয়েছে যেমন: গণগ্রন্থাগার, বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার, গবেষণা গ্রন্থাগার, বিশেষ গ্রন্থাগার, সরকারি গ্রন্থাগার, ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগার, সামাজিক গ্রন্থাগার ইত্যাদি।

দেশের সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা অনুচ্ছেদ

একবিংশ শতাব্দীর এই বিশ্বায়নের যুগে তথ্য ও প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বত্র বিরাজমান। বাংলাদেশেও এর ব্যবহার ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া পৃথিবী যেন দিকভ্রান্ত হয়ে পড়বে। আর তাই আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রযুক্তির উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলো। পাশাপাশি এদেশের জনগোষ্ঠীকে তথ্য ও প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ যুক্ত হয়েছে তথ্য প্রযুক্তির হাইওয়ে খ্যাত সাবমেরিন ক্যাবল লিঙ্কের সাথে। সারা দেশের উপজেলা গুলোতে স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক তথ্য সেবা কেন্দ্র। রাজধানীসহ দেশের জেলা শহরগুলোতে দেওয়া হয়েছে উন্নত প্রযুক্তির সব উপকরণ ও দ্রুতগতির ইন্টানেট সেবা দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে চার্জ ফ্রি ইন্টারনেট সেবা, যা 'ওয়াই-ফাই' নামে পরিচিত। দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত হয়েছে কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে ক্লাস নেয়ার সুবিধা। ফলে প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি উন্নত জ্ঞান ছড়িয়ে পড়ছে দেশব্যাপী। প্রযুক্তিবিদ্যার সীমাহীন কল্যাণে আমাদের জীবন যাত্রায় নিয়ে এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। ইন্টারনেট সুবিধার কারণে এখন ঘরে বসেই সম্পন্ন হচ্ছে বহু জটিল কাজ। অর্থনৈতিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। আর এর সবই সম্ভব হয়েছে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের উপায় অনুচ্ছেদ

ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ডেঙ্গু ভাইরাস দ্বারা এবং এই ভাইরাসবাহিত এডিস ইজিপ্টাই নামক মশার কামড়ে। স্বল্প ক্ষেত্রে অসুখটি প্রাণঘাতী ডেঙ্গু হেমোর‍্যাজিক ফিভারে পরিণত হয়। যার ফলে রক্তপাত, রক্ত অনুচক্রিকার কম মাত্রা এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ অথবা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমে রূপ নেয়। যেখানে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কম থাকে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোন ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি ৪ থেকে ৬ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। এবার এই আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশা ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে। ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে। এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনে ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে। দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।

ঐতিহাসিক ছয় দফা অনুচ্ছেদ

ছয় দফা আন্দোলন বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন। ৪ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের লাহোরে পৌঁছান এবং তার পরদিন অর্থাৎ ৫ ফেব্রুয়ারি তিনি ৬ দফা দাবি পেশ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি পত্রিকায় শেখ মুজিবকে বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসাবে চিত্রিত করা হয়। ফলে তিনি নিজেই ৬ ফেব্রুয়ারি এ সম্মেলন বর্জন করেন। বাংলাদেশের জন্য এই আন্দোলন এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে একে ম্যাগনা কার্টা বা বাঙালি জাতির মুক্তির সনদও বলা হয়। ঐতিহাসিক ছয়দফাসমূহ: প্রথম দফা : শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের প্রকৃতি, দ্বিতীয় দফা : কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা, তৃতীয় দফা : মুদ্রা ও অর্থ বিষয়ক ক্ষমতা, চতুর্থ দফা : রাজস্ব কর ও শুল্ক বিষয়ক ক্ষমতা, পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা, ষষ্ঠ দফা : আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা। প্রতি বছর ৭ই জুন বাংলাদেশে '৬ দফা দিবস' পালন করা হয়।

করোনা ভাইরাস/কোভিড-১৯ অনুচ্ছেদ

নভেল করোনাভাইরাসের মাধ্যমে সৃষ্ট রোগটি গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সালে প্রথম চীনের উহানে চিহ্নিত হয়েছিল। তখন থেকেই রোগটির নাম করা হয়েছিল করোনা ভাইরাস রোেগ ২০১৯ (কোভিড-১৯)। করোনা থেকে 'কো', ভাইরাস থেকে 'ভি', এবং 'ডিজিজ' বা 'রোগ' থেকে 'ডি' নিয়ে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয়। আগে, এই রোগকে '২০১৯ নভেল করোনা ভাইরাস' বা '২০১৯-এনসিওভি' বলা হতো। শনাক্তের পর খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এই ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হযেছিল এবং গত ১৮ মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক জনের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে শনাক্ত রোগী এবং মৃত্যের সংখ্যা। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসতন্ত্রের ফোঁটার (কাশি এবং হাঁচির মাধ্যমে তৈরী) সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে এবং এই ভাইরাস দ্বারা দূষিত অংশ স্পর্শ করার মাধ্যমে এটি সংক্রমিত হয়। কোভিড-১৯ ভাইরাস বেশ কয়েক ঘন্টা ভূপৃষ্ঠে বেঁচে থাকতে পারে, তবে সাধারণ জীবাণুনাশক এটিকে মেরে ফেলতে সক্ষম। করোনভাইরাসের লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট। আরও মারাত্মক ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের ফলে নিউমোনিয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অসুবিধা হতে পারে। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে টিকা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনার টিকা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনে মোট ২৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুচ্ছেদ

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) হল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের গৃহীত একটি বৈশ্বিক এজেন্ডা। এসডিজি ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সকল সদস্য কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল। এটির ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা এবং ১৬৯টি টার্গেট রয়েছে। ২০৩০ সাল নাগাদ সকলের জন্য আরও উন্নত ও টেকসই ভবিষ্যত অর্জনের জন্য এসডিজির গ্রহণ করা হয়েছে। ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা হল- দারিদ্রমুক্ত করা, ক্ষুধামুক্ত করা, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা, মানসম্পন্ন শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সুপেয় পানি এবং স্যানিটেশন, সাশ্রয়ী জ্বালানী, সম্মানজনক কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প, উদ্ভাবন, এবং অবকাঠামো, বৈষম্য হ্রাস, টেকসই শহর এবং জনপদ, দায়বদ্ধ ব্যবহার এবং উৎপাদন, জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ, জলের নিচের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, স্থলভূমির জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সকলের জন্য ন্যায়বিচার, এবং শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদারিত্ব। যাইহোক, এসডিজি হল কাউকে বাদ না দিয়ে বিশ্বব্যাপী সবার দারিদ্র্যের অবসান ঘটাতে, সবার জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার একটি পথনির্দেশ।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা অনুচ্ছেদ

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস করা রাজ্যহীন মানুষ। মিয়ানমার সরকার তাদেরকে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশ হতে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিগত এই গোষ্ঠীকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের বিরুদ্ধে দুই দশকেরও বেশী সময় ধরে সামরিক অভিযান চালায়। এর ফলে, প্রায় দুই মিলিয়ন রোহিঙ্গা পলায়ন করে এবং অধিকাংশ বাংলাদেশের টেকনাফ-কক্সবাজার এলাকায় আশ্রয় নেয়। এ বিশাল মানব ঢল জনবহুল বাংলাদেশের জন্য অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে যেমন রোহিঙ্গা জনসংখ্যা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্যখাত ও পর্যটন ধ্বংস করা, মাদকাসক্তি, মাদক ব্যবসা, পরিবেশের ওপর চাপ, রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ, এই বিশাল জনগোষ্ঠির চাপ সামলানোর জন্য অর্থনৈতিক সমস্যা, এবং এই এলাকায় অস্ত্র ব্যবসা ও সশস্ত্র কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের উচিত মিয়ানমারের ওপর সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা।

বঙ্গবন্ধু-১ যোগাযোগ স্যাটেলাইট অনুচ্ছেদ

বঙ্গবন্ধু-১ হলো বাংলাদেশের ১ম যোগাযোগ স্যাটেলাইট। এটি স্পেসএক্স এবং ফ্যালকন-৯ বাহনের মাধ্যমে উৎক্ষেপন করা হয়। এটির চল্লিশটি ট্রান্সপন্ডার্স আছে এবং এর অরবিটাল অবস্থান হলো ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব। ডিটিএইচ এবং ভিস্যাট সেবা প্রদান, ভিডিও আদান-প্রদান সহজীকরণ, সম্প্রচারকারীদের বিষয়বস্তু সহজে বিতরণ করতে স্যাটেলাইটটি সক্ষম। এটা দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশ কভার করে। এই স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে নিজস্ব স্যাটেলাইট আছে এমন দেশের মধ্যে ৫৭তম স্থান অধিকার করে। বাংলাদেশ এই স্যাটেলাইটটি দ্বারা দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট এবং টেলিযোগাযোগ সম্প্রসারণ করে, প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় স্থিতিশীল জরুরি টেলিযোগাযোগ সেবা দিয়ে, স্যাটেলাইটের ট্রান্সপন্ডার্স অন্যদেশের কাছে ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার মাধ্যমে সুবিধা পেতে পারে। বাংলাদেশের এই স্যাটেলাইটের জন্য টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-রিসার্চ, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো কিছু ক্ষেত্র উন্নত হবে।

মেট্রোরেল অনুচ্ছেদ

জনবহুল ঢাকা শহরকে দুর্বিষহ জ্যাম হতে মুক্তির জন্য চালু করা হয় মেট্রোরেল। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত পথ ৩৮ মিনিটেই অতিক্রম করা সম্ভব হচ্ছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত মেট্রোরেল ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি-জাইকার আর্থিক সহায়তা এবং সরকারের নিজস্ব তহবিলে নির্মিত মেট্রোরেল। ২৮ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রবেশ করে স্বপ্নের মেট্রোরেল যুগে। বাংলাদেশে মেট্রোরেলের প্রথম চালক মরিয়ম আফিজা এবং প্রথম যাত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথম ধাপে উত্তরার দিয়াবাড়ি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালু হয়। উদ্বোধনের একদিন পর অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখ হতে বাণিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু করে।

মুজিবনগর দিবস অনুচ্ছেদ

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এদিন মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। পরে এ বৈদ্যনাথতলাকেই মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সরকারের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন। কিন্তু তিনি তখন পশ্চিম পাকিস্তানে কারাগারে বন্দী। তাঁর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খন্দকার মোশতাক আহমেদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী নিযুক্ত হন। অপরদিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী অস্থায়ী সরকারের মুক্তিবাহিনীর প্রধান কমান্ডার এবং মেজর জেনারেল আবদুর রব চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১০ এপ্রিল সরকার গঠনের পর ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশবাসীর উদ্দেশে বেতারে ভাষণ দেন, যা আকাশবাণী থেকে একাধিকবার প্রচারিত হয়। এ ভাষণের মধ্য দিয়েই দেশ-বিদেশের মানুষ জানতে পারেন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি আইনানুগ সরকার গঠিত হয়েছে। আর ১৭ এপ্রিল সকালে মুজিবনগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়।

২১ ফেব্রুয়ারি/আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুচ্ছেদ

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাতৃভাষা দিবস। এটি একটি স্মরণীয় দিন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিনটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি কিছু বীর সন্তান তাদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ফলস্বরুপ, আমরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে অর্জন করি। বর্তমানের এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এর ঘটনাবহুল ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। পাকিস্তান সরকার বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু আমাদের দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা এর প্রতিবাদ করেছিল। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারা একটি মিছিল বের করেছিল। কিন্তু পুলিশ মিছিলের উপর গুলি বর্ষণ করে এবং কিছু ছাত্র ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। ফলস্বরূপ, বাংলাকে আমাদের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই দিনে মানুষ শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠে। তারা শহীদ মিনারে জড়ো হয়। তারা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে। এভাবে মানুষ প্রতিবছর দিনটি সম্মানের সাথে পালন করে। আমরা এই দিনটির জন্য গর্বিত।

স্বাধীনতা দিবস অনুচ্ছেদ

২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। এদিন সরকারি ছুটি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ শেষরাতে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষনার স্মরণে এটি উদযাপন করা হয়। প্রত্যেক বছর স্বাধীনতা দিবস যথেষ্ট গাম্ভীর্য এবং সংহতির সাথে পালন করা হয়। পুরো দেশ একটি উৎসবমুখর দৃশ্য ধারণ করে। দিনটি একত্রিশটি তোপধ্বনির মাধ্যম শুরু হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, দোকান এবং শপিংমল এর শীর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে আমরা যে কোন ধরনের অবিচার, নিপীড়ন এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে শপথ নিই। যাহোক, স্বাধীনতা দিবস একটি আনন্দ, আশা এবং অনুপ্রেরণার দিন। এই দিনটি সব বাঙালির হৃদয়ে চির সতেজ এবং চির সবুজ হয়ে থাকবে।

জাতীয় শোক দিবস অনুচ্ছেদ

১৫ আগস্ট বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস। এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ একটি অভ্যুত্থানের অংশ হিসেবে সেনাবাহিনীর ছোট একদল কর্মকর্তা কর্তৃক খুন হয়ে ছিলেন যা বাংলাদেশকে ১৯৭৫ হতে ১৯৯১ পর্যন্ত সামরিক শাসনের অধীনে রেখেছিল। ঘটনাটি তাদের ব্যক্তিগত বাসস্থান ধানমন্ডি ৩২ এ ঘটেছিল। এ নারকীয় ঘটনার শিকার ছিলেন সর্বমোট ১৮ জন। বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবসে সারা দেশব্যাপী সরকারি, শিক্ষাবিষয়ক, সাংগঠনিক এবং অন্যান্য ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখায় হয়। প্রত্যেক ১৫ আগস্টে জাতির প্রথম রাষ্ট্রপতির নির্মম হত্যাকান্ডকে আমরা স্মরণ করি এবং শোক প্রকাশ করি। এই দিনটি গাম্ভীর্যপূর্ণ এবং বাংলাদেশের মহান নেতাকে সম্মান ও মর্যাদা দেখানো হয়।

বিজয় দিবস অনুচ্ছেদ

১৬ ডিসেম্বর হচ্ছে আমাদের বিজয় দিবস। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় দিন। এই দিনে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে বিজয় অর্জন করি। নয় মাসের দীর্ঘ সংগ্রামের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই দিনে আমাদের মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। অনেক কারণে এই দিনটির যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এখন বাংলাদেশকে বিশ্বের মধ্যে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহাসিক দিক থেকে আমরা আমাদের গৌরবময় উন্নতি লাভ করতে শুরু করি। আমাদের জাতিকে বীরের জাতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃত পক্ষে, এই দিনটি আমাদের জন্য যথেষ্ট প্রাপ্তির একটি দিন। প্রত্যেক বছর এই দিনটি যথেষ্ট গাম্ভীর্য এবং সংহতির সাথে পালন করা হয়। পুরো দেশ একটি উৎসবমুখর দৃশ্য ধারণ করে। দিনটি তোপধ্বনির মাধ্যম শুরু হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, দোকান এবং শপিং মল এর শীর্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধে যায়। এই দিনে আমরা যে কোন ধরনের অবিচার, নিপীড়ন এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে শপথ নিই। যা-হোক, এটি একটি আনন্দ, আশা এবং অনুপ্রেরণার দিন। এই দিনটি সব বাঙালির হৃদয়ে চির সতেজ এবং চির সবুজ হয়ে থাকবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুচ্ছেদ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালি জাতির পিতা। তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবীদ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। তাঁকে সম্মানজনক উপাধি বঙ্গবন্ধু এবং বাঙ্গালি জাতির পিতা বলা হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেছিলেন। তাকে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতের পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি হতে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তাকে পশ্চিম পাকিস্তানে নেওয়া হয়েছিল এবং ফয়সালাবাদের নিকট একটি জেলে রাখা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একদল নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ধানমন্ডি ৩২ এ রাষ্ট্রপতির বাসভবন আক্রমন করে এবং বাঙ্গালি জাতির পিতাকে তার পরিবার ও ব্যক্তিগত কর্মচারীসহ হত্যা করে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনুচ্ছেদ

অল্প অথবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের বিরতিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বলে। বর্তমানে এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অনেক কারণ রয়েছে যেমন বিদ্যুতের অপর্যাপ্ত উৎপাদন, বিদ্যুতের অপব্যবহার এবং অবৈধ সংযোগ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটা রাতে ঘটে কারণ দিনের চাইতে রাতে বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হয়। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনাতীত। এটি একটি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সমস্যার সৃষ্টি করে। কলকারখানা, দোকানপাট, হাসপাতাল প্রভৃতি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অচল হয়ে পড়ে। ছাত্র- ছাত্রীদের ভোগান্তির সীমা থাকে না। তারা অত্যন্ত কষ্ট ভোগ করে যদি এটি তাদের পরীক্ষার সময় ঘটে। রোগীরাও ভয়ংকররূপে কষ্ট ভোগ করে কারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য হাসপাতালে অপারেশন থেমে যায়। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যেমন আরো বিদ্যুৎ উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করা, অবৈধ সংযোগ এবং সিস্টেম লস বন্ধ করা ইত্যাদি। মোটের উপর বিদ্যুতের অপব্যবহারের বিষয়ে সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

যানযট অনুচ্ছেদ

যানযট হচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি যাতে অসংখ্য যানবাহন জ্যামে আটকে যায়। এটি বড় শহর ও নগরের বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম। যানযটের অনেকগুলো কারণ রয়েছে যেমন- সংকীর্ণ রাস্তা, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসহীন যানবাহন, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে অজ্ঞতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, অপর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ, যেখানে সেখানে পার্কিং এবং অভার টেকিং মনোভাব। এটি আমাদের জন্য চরম ভোগান্তি বয়ে আনে। এটি আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে। আমরা যথাসময়ে স্কুল, কলেজ, অফিস এবং হাসপাতালে পৌঁছতে পারি না। মাঝে মাঝে এ্যম্বুলেন্স এবং দমকল বাহিনী যানযটের কারণে দ্রুত যেতে পারে না। যা-হোক, এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। রাস্তার সংখ্যা বাড়াতে হবে। গুরত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ নিযুক্ত করতে হবে। কঠোর হাতে ট্রাফিক নিয়ম কানুন আরোপ করতে হবে। অনুমোদনহীন যানবাহন দূর করতে হবে। ট্রাফিক নিয়ম কানুন সম্পর্কে চালকদের সচেতন করতে হবে।

কম্পিউটার অনুচ্ছেদ

আমাদের যুগ বিজ্ঞানের যুগ। বিজ্ঞান অনেক জিনিস আবিষ্কার করেছে। কম্পিউটার এগুলোর মধ্যে একটি। এটি আধুনিক জীবনের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশে পরিণত হয়েছে। একটি কম্পিউটার পাঁচটি প্রধান অংশে গঠিত। এগুলো হলো ইনপুট বিভাগ, আউটপুট বিভাগ, স্মৃতি বিভাগ, নিয়ন্ত্রন বিভাগ এবং হিসাব বিভাগ। কম্পিউটার শিক্ষার সকল শাখার অত্যন্ত জটিল কাজ করতে সক্ষম। কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি কম্পিউটার এমন হিসাব-নিকাশ করতে পারে যা সম্পাদন করতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গণিতবিদগণের বছরের পর বছর সময় লাগবে। বর্তমানে আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রে কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। এটা শিক্ষা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কৃষি, বাণিজ্য, ছাপা এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এটা আমাদের শ্রম কমিয়েছে এবং আমাদের জীবন সহজ ও আরামদায়ক করেছে। যথেষ্ট সুবিধা থাকা সত্তেও এর কিছু অসুবিধাও রয়েছে । এটা ব্যবহারকারীদের দৃষ্টিশক্তিকে দুর্বল করে। প্রোগ্রামে কোন ত্রুটি থাকলে এটা ভুল ফলাফল প্রদান করতে পারে। তখন এটা অবর্ণনীয় ক্ষতি বয়ে আনতে পারে। যা-হোক, কম্পিউটার আমাদের জীবনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এটা ব্যতীত আমরা এক মুহুর্তও চলতে পারি না। এটা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ

জাতীয় পতাকা একটি জাতির স্বাধীনতাকে প্রতীকায়িত করে। এটি যে কোন দেশকে বিশ্বের মানুষের নিকট পরিচয় করিয়ে দেয়। প্রত্যেক স্বাধীন দেশেরই একটি জাতীয় পতাকা রয়েছে। আমরা একটি স্বাধীন দেশে বাস করি। আমাদের নিজস্ব জাতীয় পতাকা রয়েছে। এটির আকার ১০:৬। এটা সুতা, লিলেন অথবা সিল্কের কাপড় দিয়ে তৈরি হতে পারে। আমাদের জাতীয় পতাকার রং সবুজ এবং কেন্দ্রে একটি লাল বৃত্ত রয়েছে। সবুজ রং যৌবন এবং শান্তি নির্দেশ করে। লাল বৃত্ত দীর্ঘ অন্ধকারাচ্ছন্ন শাসনকালের উপর সূর্যোদয়কে নির্দেশ করে। এটা জাতির জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যতেরও নির্দেশ করে। আমাদের জাতীয় পতাকার নকশাবিদ হচ্ছেন কামরুল হাসান। এটি সরকারি অফিস বিল্ডিং, বিদেশি দূতাবাস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উত্তোলন করা হয়। জাতীয় শোক দিবসে এটি অর্ধনমিত রাখা হয়। আমি আমাদের জাতীয় পতাকার জন্য গর্বিত।

বিশ্বায়ন অনুচ্ছেদ

বর্তমান বিশ্বে বিশ্বায়ন একটি বহুল প্রচলিত শব্দ। এটি হচ্ছে সীমানাহীন বাজার সৃষ্টি করে বিশ্বব্যাপী ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের একটি প্রক্রিয়া। বিশ্বায়নের অনেক সুবিধা রয়েছে। পৃথিবী ছোট হয়ে এসেছে। আমরা মুহুর্তের মধ্যে জানতে পারি পৃথিবীর দূরপ্রান্তে কি ঘটছে এবং সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে যে কোন দেশ ভ্রমণ করতে পারি। পৃথিবীর দেশ গুলো হচ্ছে একটি গ্রামের পরিবারগুলোর মত। পৃথিবীর মানুষ সহজেই তাদের আনন্দ, বেদনা এবং আবেগ একে অন্যের সাথে বিনিময় করতে পারে। এভাবে আমরা দূরত্ব এবং সময় জয় করেছি। যদি একটি দেশ বিপদে পড়ে, তবে অন্যরা তাৎক্ষণিকভাবে এর সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে। যা-হোক, বিশ্বায়নের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। বিশ্বায়নের নামে পুঁজিবাদী দেশগুলো দরিদ্র দেশগুলোকে শোষণ করার মাধ্যমে অধিকতর বেশি সুযোগ-সুবিধা উপভোগ করছে। এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে। স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো দেখার মাধ্যমে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি দিন দিন পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে রূপ নিচ্ছে। যা-হোক, বিশ্বায়নের মাধ্যমে পরস্পরকে বুঝতে পারা এবং সহযোগিতার একটি পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে আমরা আমাদের পৃথিবীকে অধিকতর সুন্দর স্থানে পরিণত করতে পারি।

ইন্টারনেট অনুচ্ছেদ

ইন্টারনেট হচ্ছে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক। এটিকে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্কও বলা হয়। দুই বা ততোধিক কম্পিউটার তার, মডেম, স্যাটেলাইট প্রভৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ করার প্রক্রিয়াকে ইন্টারনেট বলা হয়। বর্তমানে কম্পিউটার নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে উপাত্ত বিনিময়ের এটিই একমাত্র মাধ্যম। এটি খুব সহজে এবং দ্রুততার সাথে কাজ করে। ইন্টারনেটের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। এটি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা বিজ্ঞান, গবেষণা এবং মার্কেটিং ইত্যাদি ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে, ইন্টারনেট ভিত্তিক ই-কমার্স বিশ্বব্যাপী খুব জনপ্রিয় হয়েছে। কারণ, খদ্দেররা বাজারে যাওয়া ছাড়াই যে কোন কিছু ক্রয় করতে পারে। ইন্টারনেটের কিছু অপকারিতাও রয়েছে। আমাদের যুব সম্প্রদায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে সহজেই অশ্লীল চিত্রকল্প এবং ভিডিও পেতে পারে। ফলে, তারা এতে আসক্ত হয়ে পড়ে এবং এভাবে তাদের নৈতিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা- হোক, আমাদের দেশে ইন্টারনেটের ব্যবহার খুবই ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের মানুষের জন্য ইন্টারনেটের সহজ সুযোগের ব্যবস্থা করতে আমাদের সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা অনুচ্ছেদ

ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পর্যটন খাতের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। এ দেশের আছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমুদ্র সৈকত, বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, সেন্ট মার্টিনের মতো কোরাল আইল্যান্ড। কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকতের মতো একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করা যায় এই দেশে। রয়েছে বান্দরবানের মতো পাহাড়ি জনপদ। যেখানে উপচে পড়া সৌন্দর্যরা সারা বছরই আমাদের মন ভরায়। সেখানকার নীলগিরি, নীলাচল, খাগড়াছড়ির সাজেক ভ্যালি মন ভোলায় সকলের। এ দেশে রয়েছে সমুদ্র, পাহাড়, নদ-নদী, বনাঞ্চল বা সবুজ গ্রামের একীভূত রূপ আর কোথায় আছে? আরো রয়েছে জাফলং-বিছানাকান্দির জল পাথরের মিতালি। আমাদের আছে হাজার বছর আগের প্রত্ন ঐতিহ্য। বিশ্বে এমন অনেক দেশই আছে শুধু পর্যটনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেছে যাদের অর্থনীতির ভিত। সেসব দেশে পর্যটন খাত লাভজনক শিল্প। নিতে ১৯৯২ সালে প্রথম জাতীয় পর্যটন নীতিমালা করা হয। ভ্রমণ পিয়াসীদের জন্য আকর্ষণীয় ও নিরাপদ কোনো কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের পর্যটনকে এগিয়ে নিতে এবং অপার সম্ভাবনাময় করে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি- কে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক, টুইটার বা ইউটিউব আইডি নিয়মিত মেইনটেইন করতে হবে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ড বিজ্ঞাপন, বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ, ক্যাম্পেইন ইত্যাদি বাড়াতে হবে। তদোপরি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারলে অপরূপ বাংলাদেশটাকেও বিশ্বমানুষ তাদের অবকাশযাপনের ঠিকানা হিসেবে ভাবতে বাধ্য হবেন।

নারীর ক্ষমতায়ন অনুচ্ছেদ

নারীর ক্ষমতায়ন বলতে মূলত বোঝায় নারীর স্বাধীনতা ও সকল ক্ষেত্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা, বিশেষ করে ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা। ক্ষমতা হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ- বস্তুগত, মানবিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণ। নারীর ক্ষমতায়নের অর্থই হলো, সমাজের প্রতিটি স্তরে এমন একটি সুস্থ পরিবেশ থাকবে যেখানে নারী আপন মহিমায় স্বাধীন ও মর্যাদার অধিকারী হয়ে উঠবে; নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে বস্তুগত, মানবিক ও জ্ঞান সম্পদের উপর। শিশুকাল থেকে নারীর ভেতর বপন করা হয় নীচতার এক বীজ। সেই বীজ সেখানেই প্রস্ফুটিত হয়ে আপন মনে। ফলে নারীরা যৌতুক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ প্রভৃতি নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। এ জন্য দায়ী পশ্চাৎপদ রক্ষণশীল ধর্মান্ধ মানসিকতা, প্রচার মাধ্যমগুলোতে নারীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন, অশিক্ষা এবং আইনের প্রয়োগহীনতা। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া নারীর শিক্ষা প্রসার এবং দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার তাগিদ দিয়েছেন। নারী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী সুফিয়া কামালও নারীর বন্ধনমুক্তি ও ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। এ থেকে উত্তোরণের জন্য প্রচার মাধ্যগুলোতে নারীকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে হবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীর ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি ও রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। রক্ষণশীল মানসিকতার পরিবর্তন সাধন করে নারীর কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে।

বৃক্ষরোপন অভিযান অনুচ্ছেদ

গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছপালা ব্যতীত পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব কল্পনা করা কঠিন। গাছ লাগানোর উদ্যোগ ব্যবস্থাপনাকেই বৃক্ষরোপন অভিযান বলে। প্রাকৃতিক লীলা বৈচিত্রের এ দেশে মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের দেশে মোট ভূমির মাত্র ১০৬ ভাগ বনভূমি রয়েছে যা দেশের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। গাছ কম থাকলে সময়মত বৃষ্টি না হওয়া, অসময়ে প্রচুর বৃষ্টি হওয়া, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয়। বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বায়ু হতে কার্বন-ডাই- অক্সাইড নিঃস্বরণের জন্য গাছের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। বৃক্ষ রক্ষা মানে আমাদের জীবন রক্ষা। বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখা ও এর সম্প্রসারণের জন্য আমাদের দেশে প্রতি বছর বৃক্ষরোপন অভিযান পরিচালিত হয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষাকালে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপন অভিযান চালানো হয়। বৃক্ষরোপন অভিযানকে আরও ত্বরান্বিত করতে বৃক্ষ রোপনের পাশাপাশি বৃক্ষ সংরক্ষন করতে হবে। বৃক্ষ সংরক্ষণের জন্য আরও কঠোর আইন প্রণয়ন এবং তার যথাযথ ব্যবহার করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও বাঁধ, সড়ক, রেলপথ, খালের পাড়, খাস পুকুর পাড়, খাস জমি ইত্যাদিতে বৃক্ষরোপন করতে হবে এবং জনমনে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

কর্ণফুলী টানেল অনুচ্ছেদ

কর্ণফুলী টানেল হল কর্ণফুলী নদীর নিচে অবস্থিত একটি প্রস্তাবিত নদী সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গটি কর্ণফুলী নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করবে। এই সুড়ঙ্গ মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হবে। কর্ণফুলী সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য ৩.৪৩ কিলোমিটার। এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ হলে এটিই হবে বাংলাদেশ এর প্রথম সুড়ঙ্গ পথ। নদী সুড়ঙ্গটির নির্মাণ কাজ হাতে পেয়েছে চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানির (সিসিসিসি)। অনুমান করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্য টানেল বা সুড়ঙ্গটির নির্মাণ শেষ হবে। সুড়ঙ্গটির মূল দৈর্ঘ্য ৩.৪৩ কিলোমিটার হলেও এর সঙ্গে ৫ কিলোমিটারের বেশি অ্যাপোচ রোড যুক্ত হবে। কর্ণফুলী টানেল চালুর প্রথম বছর ৬৩ লাখ গাড়ি টানেলের নিচ দিয়ে চলাচল করবে। একসময় এই পরিমাণ এক কোটি ৪০ লাখে গিয়ে ঠেকবে। চালুর প্রথম বছরে চলাচলকারী গাড়ির প্রায় ৫১ শতাংশ হবে কনটেইনার পরিবহনকারী ট্রেইলর ও বিভিন্ন ধরনের ট্রাক ও ভ্যান। বাকি ৪৯ শতাংশের মধ্যে ১৩ লাখ বাস ও মিনিবাস, আর ১২ লাখ কার, জিপ ও বিভিন্ন ছোট গাড়ি। নদীর তলদেশে এর গভীরতা হবে ১৮ থেকে ৩১ মিটার। মোট দুটি টিউব নির্মিত হবে। এর একটি দিয়ে গাড়ি শহরপ্রান্ত থেকে প্রবেশ করবে, আরেকটি টিউব দিয়ে ওপার থেকে শহরের দিকে আসবে। টানেলের প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ১০ দশমিক ৮ মিটার বা ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় হবে ৪ দশমিক ৮ মিটার বা প্রায় ১৬ ফুট। একটি টিউবে বসানো হবে দুটি স্কেল। এর ওপর দিয়ে দুই লেনে গাড়ি চলাচল করবে। পাশে হবে একটি সার্ভিস টিউব। মাঝে ফাঁকা থাকবে ১১ মিটার। যেকোনো বড় যানবাহন দ্রুত স্বাচ্ছন্দ্যে চলতে পারবে এই টানেল দিয়ে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র অনুচ্ছেদ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি রাশিয়ার রোসাটোম স্টেট অ্যাটমিক এনার্জি কর্পোরেশন কর্তৃক পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর নামক স্থানে নির্মীত হচ্ছে। এটি দেশের সবচেয়ে বড় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে সর্বাধিক ব্যয়বহুল প্রকল্প। কেন্দ্রটিতে দুটি ইউনিট থাকবে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করবে। দুর্ঘটনা রোধে কেন্দ্রটিতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রটিতে আড়াই হাজার দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান হবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হলে বহুবছর বছর কার্বন নিঃসরণ ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। কেন্দ্রটি হতে অনেক সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। দেশের ১৮ লাখ পরিবার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা লাভ করবে।

রূপকল্প – ২০৪১ অনুচ্ছেদ

'রূপকল্প ২০৪১' হল একটি জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা যার লক্ষ্য বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থানকে শক্তিশালী করা। 'রূপকল্প ২০২১'-এর ধারাবাহিকতায় 'রূপকল্প ২০৪১' গ্রহণ করা হয়েছে। 'রূপকল্প ২০৪১'-এর লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে চরম দারিদ্র্যের অবসান এবং উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদায় রূপান্তর করা এবং ২০৪১ সালের মধ্যে দ্রুত দারিদ্র্য দূরীকরণের মাধ্যমে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়া। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসন, আয়বৈষম্য হ্রাস, নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বাণিজ্য ও লেনদেনে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, টেকসই বিদ্যুত ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে উচ্চ আয়ের মর্যাদা অর্জন করতে চায়। পরিকল্পনায় উন্নয়নের সুফল যথাযথভাবে বণ্টনের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে যাতে ভারসাম্যমূলক দ্রুতগতির এ প্রবৃদ্ধির সুফল দরিদ্র ও অরক্ষিত জনগোষ্ঠীসহ সকলেই পায়। যাহোক, রূপকল্প ২০৪১ নিঃসন্দেহে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি সুলিখিত, উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন দলিল।

প্রিয় জ্ঞান পিপাসু, আশা করি আজকের আর্টিকেলটি আপনাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করতে অনেকটা সহায়তা করবে। নিয়মিত আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইটটি প্রতিনিয়ত ভিজিট করতে থাকুন। ধন্যবাদ!